খাগড়াছড়ির_ভ্রমণ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মোট আয়তন ২৭০০ বর্গ কিলোমিটার।ঢাকা হতে এর দূরত্ব ২৬৬ কিমি আর চট্টগ্রাম হতে ১১২ কিমি।এর স্থানীয় নাম চেংমী।প্রকৃতি অকৃপণভাবে সাজিয়েছে খাগড়াছড়িকে।স্বতন্ত্র করেছে বিভিন্ন অনন্য বৈশিষ্ট্যে।খাগড়াছড়িতে ঘুরে দেখার মত অনেক স্থান আছে।চাইলে তিনদিন দুরাত সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন খাগড়াছড়ি।

কোথায় ঘুরবেন?

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রঃএর মূল আকর্ষণ হলো রহস্যময় সুড়ঙ্গ।পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিড়ির ধাপ নেমে এই সুরঙ্গে ঢুকতে হয়।এই সুরঙ্গটি প্রায় ৩৫০ ফিট দীর্ঘ।সুরঙ্গটির এক পাশ দিয়ে ঢুকে আরেক পাশ দিয়ে বের হতে প্রায় ১৫ মিনিট লাগে।সুড়ঙ্গটির কোন কোন জায়গায় বাদুড় ঝুলে থাকতে দেখা যায়।তখন মনের মধ্যে অন্যরকম শিহরণ জাগে।
সুড়ঙ্গে ঢুকার জন্য ২০টাকা করে টিকেট আর ১৫ টাকা করে মশাল কিনতে হবে।মশাল কেবল ছবি তোলার কাজেই আসে।সুরঙ্গের ভিতর মশালের চেয়ে মোবাইলের টর্চই বেশি কাজে আসে।

রিসাং ঝর্নাঃখাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ৯ কিমি দূরে অবস্থিত রিসাং পর্যটন কেন্দ্র।মূল রাস্তা থেকে আরো ২ কিমি দূরে অবস্থিত রিসাং ঝর্না।প্রাকৃতিক এই পাহাড়টি প্রায় ৩০ মিটার উঁচু থেকে গড়িয়ে পড়ছে পাহাড়ের গায়ে।পর্যটকদের সুবিধার জন্য এই ঝর্নায় যেতে পাকা সিঁড়ি দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।এই ঝর্নায় স্লাইড দেয়া যায়।তবে স্লাইড দিলে প্যান্ট ফাটবে যে এটাও নিশ্চিত।

তেরাং হেলিপ্যাডঃতেরাং পাহাড়ের উপর আর্মির করা একটি হেলিপ্যাড হলো এই তেরাং হালিপ্যাড।এখান থেকে পুরো খাগড়াছড়ি শহরের এক অনিন্দ সুন্দর ভিউ উপভোগ করা যায়।

জেলা পরিষদ পার্কঃ খাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে জিরোমাইল এলাকায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত নয়নাভিরাম খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ পার্ক।দু’টি পাহাড়কে একটি ঝুলন্ত ব্রিজের মাধ্যমে সংযুক্ত করে ২২ একর জায়গা জুড়ে ২০১১ সালে এ পার্কটি স্থাপিত হয়েছে। পার্কটির পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে হ্রদ। সেখানে নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা।

শান্তিপুর অরন্য কুটিরঃ পানছড়ি উপজেলা সদর হতে ৫ কিমি দূরত্বে উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুর নামক গভীর অরণ্যবেষ্টিত বনভুমিতে ৬৫ একর জায়গার উপর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শান্তির প্রতীক এই তীর্থস্থান অবস্থিত।এখানে পর্যটকরা ২০ হাজারেরও বেশি গাছ দেখতে পাবেন।এখানে রয়েছে দক্ষিন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও বাংলাদেশের বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি।এর উচ্চতা ৬৫ ফুট।

দেবতা পুকুরঃ জেলা সদর থেকে মাত্র ০৫ কি:মি: দক্ষিণে খাগড়াছড়ি – মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেষে অবস্থিত মাইসছড়ি এলাকার আলুটিলা পর্বত শ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। মূল রাস্তায় বাস থেকে নেমে কিলো দুয়েক পায়ে হাঁটা পথ। নিজস্ব পরিবহন থাকলে তা নিয়ে আপনি সোজা চলে যেতে পারেন একেবারে পাদদেশে নদীর কাছে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে পাহাড়ের কোলে খানিকটা জিরিয়ে নিতে পারেন। যাওয়ার পথেই দেখা যাবে নুনছড়ি নদীর ক্ষীণ স্রোতের মাঝে প্রকান্ড পাথর। স্বচ্ছ জলস্রোতে স্থির পাথর আপনাকে মোহিত করবে। ছবি প্রেমিক পর্যটকরা এখানে ছবি তোলেন। সমুদ্র সমতল হতে ৭০০ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় এই দেবতার পুকুর অবস্থিত।

শতায়ুবর্ষী বটগাছঃমাটিরাংগা উপজেলার খেদাছড়ার কাছাকাছি এলাকায় এ প্রাচীন বটবৃক্ষ শুধু ইতিহাসের সাক্ষী নয় এ যেন দর্শনীয় আশ্চর্যের কোন উপাদান। এ গাছের বয়স নিরূপনের চেষ্টা একেবারেই বৃথা। পাঁচ একরের অধিক জমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটকের কাছে দারুণ আকর্ষণীয়। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা প্রতিটি ঝুড়িমূল কালের পরিক্রমায় এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, ঝুড়িমূল থেকে সৃষ্ট প্রতিটি বটগাছ তার মূল গাছের সাথে সন্তানের মতো জড়িয়ে আছে। খাগড়াছড়ি কেউ যদি একবার আসেন তাহলে ভুলেও কেউ শতায়ু বর্ষী বটগাছ না দেখে ফিরে যান না।

মায়ং কপাল/হাতিমুড়াঃ স্থানীয়রা একে হাতি মাথা নামেও চিনে।ভ্রমণ জগতে এটি স্বর্গের সিঁড়ি নামে ব্যাপকভাবে পরিচিত।খাগড়াছড়ি জেলার উপজেলা সদরের পেরাছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত ৩০৮ ফুট লম্বা এই লোহার সিড়ি।যেতে হলে প্রথমে খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যাওয়ার পথে জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনির সামনে নামতে হবে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে জামতলী পর্যন্ত গাড়ী ভাড়া জন প্রতি ১৫ টাকা। এরপর জামতলীস্থ যাত্রী ছাউনির বামদিকের রাস্তা ধরে সোজা গিয়ে চেঙ্গী নদী পার হয়ে ডান দিকে স্কুলের রাস্তার দিকে যেতে হবে। স্কুলের নাম পল্টনজয় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়। ওখানে গিয়ে একটি দোকান পাবেন। দোকানের সামনে দিয়ে ডানের রাস্তা ধরে যেতে হবে। দুটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হবে। এরপর ডানদিকে ছড়ার পাশ দিয়ে যে ছোট্ট রাস্তা গেছে, সেটি দিয়ে আরেকটি বাঁশ-গাছের সাঁকো পার হয়ে এবার সোজা পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে বগড়া পাড়া নামে একটি পাড়া পড়বে। এরপর সামনে এগুলে বিস্তৃত ছড়া পড়বে। এরপর একটি বড় টিলা পার হতে হবে। এটি পার হলে একটি লোকালয় পাওয়া যাবে, যে এলাকার নাম কাপতলা। এরপর হাতের ডান দিকে নিচু পথ ধরে এগিয়ে যেতে হবে, যেতে যেতে সামনে দুইটি রাস্তা পাওয়া যাবে এবং ডান দিকের রাস্তা ধরে এগুতে হবে। এরপর দেখা মিলবে অসাধারণ মায়ুং কপাল। সব মিলিয়ে পৌঁছাতে সময় লাগবে ঘন্টা দেড়েক।

তৈদুছড়া ঝর্ণাঃখাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় অবস্থিত এই নয়নাভিরাম ঝর্ণাটি।ত্রিপুরা ভাষায় তৈদু মানে হলো পানির দরজা আর ছড়া মানে ঝর্ণা।অন্য সকল ঝর্নার মত এর পানি সরাসরি উপর হতে নিচে পড়ে না। পাহাড়ের গায়ে সিড়ির মত তৈরি হওয়া পাথুরে ধাপ গুলো অতিক্রম করে নিচে পড়ে তৈদুছড়া ঝর্নার পানি। তৈদুছড়া ঝর্ণার ডানপাশ দিয়ে পাহাড়ের উপরে রয়েছে আরেকটি ঝর্না যার নাম থাংঝাং ঝর্ণা। এখানে প্রায় ৮০-৮৫ ডিগ্রী এঙ্গেলের ঢাল বেয়ে ১০০ ফুট উপরে উঠতে হবে। উপরে উঠলে প্রথমেই চোখে পড়বে ঝর্ণা মুখ যেখান হতে তৈদুছড়া ঝর্নার পানি পড়ছে। থাংঝাং ঝর্না হতে ঝিরি পথে পানি আসছে এখানে। ঝিরি পথ ধরে প্রায় ঘন্টা খানেক হাটলে পরে পৌছানো যায় থাংঝাং ঝর্নাটিতে।এই ঝর্ণাটি প্রায় ৮০ ফুট উঁচু।
এখানে যেতে হলে দীঘিনালা হতে প্রথমে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।এরপর যেতে হবে গাড়ীতে/মোটরসাইকেলে করে চাপ্পাপাড়া।চাপ্পাপাড়া হতে আপনাকে গাইড ঠিক করে নিতে হবে।দীঘিনালা বাজারেও গাইড পাবেন। দিঘীনালার স্থানীয় পোমাংপাড়া কিংবা জামতলী হতে দুর্গম পথ, উচু নিচু পাহাড়, কোথাও হাটু সমান আবার কোথাও বুক সমান পানি আর জঙ্গল পাড়ি দিয়ে যেতে হয় তৈদুছড়া ঝর্নার কাছে। সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা। তিন ঘন্টা হাঁটার পর পৌঁছবেন ১ম ঝর্ণায় এবং আরো ১ ঘন্টা পাহাড় ট্রেকিং ও ঝিরি পাড়ি দিয়ে পৌছতে হবে ২য় ঝর্ণাতে।

মহালছড়ি হ্রদঃকাপ্তাই বাঁধের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানি জমে নানিয়ারচর হয়ে মহালছড়ি পর্যন্ত এসেছে। বর্ষাকালে বিশাল জলরাশি জমাট হয়ে পরিণত হয় এক ফ্রিঞ্জল্যান্ডে। মহালছড়ি ডাকবাংলো হতে এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে যে কোন পর্যটক মুগ্ধ না হয়ে পারেন না। এ ছাড়া মহালছড়ি হতে এ হ্রদ দিয়ে রাঙামাটি যাওয়ার পথে দু’ধারের মনোরম ও নয়নাভিরাম দৃশ্য ভ্রমন পিপাসুদের ভাল লাগবেই।

পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রঃখাগড়াছড়ি শহর থেকে মাত্র ৩ কি: মি: পূর্বেই কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। পাহাড়ের বুক চিড়ে রাস্তার দু’পাশে ফলের বাগান, স্বচ্ছ-স্থির জলরাশি, টিয়া সহ নানান প্রজাতির পাখি দেখে আপনি নিজেকে নতুনভাবে আবিস্কার করবেন আরেকবার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি এ কেন্দ্রটি। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসে শুধু সবুজের স্নিগ্ধতা মন্থনের আশায়। কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের অনিন্দ্য সুন্দর খামার যে কোন পর্যটককে মোহিত করার ক্ষমতা রাখে।

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো সার্ভিস দেয় শান্তি পরিবহণ।ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে রাত ১০টা থেকে ১১.৩০ পর্যন্ত ৪টি বাস সরাসরি খাগড়াছড়ি আসে।ভাড়া ৫২০ টাকা।আর চট্টগ্রামের অক্সিজেন থেকে যেকোন সময়ই শান্তি পরিবহণের বাস পাওয়া যায়।ভাড়া ১৯০ টাকা।
খাগড়াছড়িতে ঘুরার জন্য চাঁদের গাড়ির চেয়ে ভালো অপশন আর হয় না।চাঁদের গাড়ি প্রতিদিন ৩/৪ হাজার করে নিতে পারে।এসব গাড়িতে ১৩/১৪ জন বসা যায়।সুবিধার জন্য এখানে একজন ড্রাইভারের নাম্বার দিলাম। নূর আলম- ০১৮২০৭৩২০৪৩

কোথায় থাকবেন?

পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পড়বে।মানসম্পন্ন এই মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার।অর্থাৎ চাপাচাপি করে ৪ জন থাকা যাবে।ভাড়া ১৩০০ টাকা।যোগাযোগ-০৩৭১৬২০৮৪/৫

হোটেল জিরানঃকম খরচে চাইলে এই হোটেলে থাকতে পারেন।এখানে দুজনের এক রুমের ভাড়া ৩০০ টাকা।দামাদামি করলে হয়তো আরেকটু কমবে।যোগাযোগ-০৩৭১৬১০৭১

কোথায় খাবেন?

খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরাঁ।এখানকার খাবার বেশ তৃপ্তি সহকারে খেয়েছিলাম।যোগাযোগ-০৩৭১৬২৬৩৪।

ট্যুর প্ল্যানঃ

প্রথম দিনঃ আলুটিলা সুড়ঙ্গ-রিসাং ঝর্ণা-মহালছড়ি লেক-দেবতা পুকুর-তারেং হেলিপ্যাড

দ্বিতীয় দিনঃ জেলা পরিষদ পার্ক-পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র–তৈদুছড়া ঝর্ণা

তৃতীয় দিনঃ হাতিমুড়া-শতায়ুববর্ষী বটগাছ-শান্তিপুর অরণ্য কুটির

গ্রুপে নিয়মের কারণে ৫ টির বেশি ছবি দেয়া গেলো না।আরো ছবি দেখতে চাইলে এই এলবামে ভিজিট করতে পারেনঃ
https://www.facebook.com/sadman.rdx/media_set…

সতর্কতাঃ
১।তৈদুছরা আর হাতিমুরাতে বেশ ট্রেকিং করা লাগবে।এসব জায়গায় গেলে অবশ্যই ট্রেকিং এর প্রিপারেশন নিয়ে যাবেন।এক্সট্রা কাপর,পলিথিন,ট্রেকিং স্যান্ডেল আর শুকনো খাবার নিয়ে যাবেন।
২।লোকাল লোকজন অতিথিপরায়ন কিন্তু তাদের সাথে তর্কাতর্কি তে না যাওয়াই ভাল।বিশেষ করে আদিবাসীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। ছবি তুলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে ছবি তুলুন।কেন জানি তারা ছবি তোলা পছন্দ করে না।
৩।টুরে অযথা বীরত্ব না দেখানোই উচিত, হয়তো কিছুই হবে না কিন্তু সাবধানতার আম্মু-আব্বু নেই।
৪।টুরে যাবেন তো হালকা ড্রেস পরার চেষ্টা করুন। ভারি ড্রেসে আপনি সহজে মুভ করতে পারবেন না।
৫।কোন ছাইয়া পাবলিকদের দলে ভিরাবেন না।মনে রাখবেন, একজন স্বার্থপর টুর মেম্বার আপনার স্বাধের টুরের ১২টা বাজায় ফেলতে পারে।
৬।হোটেল থেকে শুরু করে প্রত্যেক লেনদেনের ক্ষেত্রে দরদাম করতে ভুলবেন না।আপনার দরাদরি করার দক্ষতার উপর ট্যুরের খরচ অনেকাংশে নির্ভর করে।
৭।সাথে গামছা রাখুন।এটা যে কতরকম কাজে আসে !!!

বিঃদ্র- ভ্রমণের সময় পরিবেশের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।প্লাস্টিক-পলিথিন প্রভৃতি অপচনশীল বস্তু যত্রতত্র ফেলা থেকে বিরত থাকুন।পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখুন।

ভ্রমণ হোক আনন্দময়।

Posted in General.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *